সূত্রলেখা — ০০২
মানুষ সাধারণত স্বাধীনতা চায় না।মানুষ চায় এমন এক বন্দিত্ব,যেটাকে সে নিজের পছন্দ বলে বিশ্বাস করতে পারে।
কারণ স্বাধীনতা দায়িত্ব নিয়ে আসে।আর দায়িত্ব মানে—নিজের সিদ্ধান্তের ভার নিজেকেই বহন করা।
মানুষ তাই নিয়মের ভেতরে আশ্রয় খোঁজে,ভিড়ের ভেতরে নিরাপত্তা খোঁজে,আর অনুমোদনের ভেতরে শান্তি খোঁজে।যেখানে প্রশ্ন করার দরকার পড়ে না,শুধু মেনে নেওয়াই যথেষ্ট।
কিন্তু যেদিন কেউ নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে,সেদিন থেকেই তার সমস্যা শুরু হয়।কারণ প্রশ্ন ভাঙে—ধারণা, অভ্যাস, আর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভয়।
প্রশ্ন মানুষকে অস্থির করে না।প্রশ্ন মানুষকে উন্মুক্ত করে।আর উন্মুক্ত মানুষকেভিড় সহ্য করতে পারে না।
এই জন্যই স্বাধীন মানুষকেপ্রায়শই অহংকারী মনে হয়।আসলে সে অহংকারী নয়—সে শুধু অনুমোদনের ভিক্ষা চায় না।
স্বাধীনতা মানে যা খুশি করা নয়।স্বাধীনতা মানে—নিজের প্রতিটি কাজের দায় স্বীকার করতে পারা।
যে মানুষ নিজের ভুলের দায় নিতে পারে না,সে সত্যও বহন করতে পারে না।আর যে সত্য বহন করতে পারে না,তার স্বাধীনতা আসলে নামমাত্র।
মানুষ অনেক সময় নৈতিকতা নিয়ে কথা বলে।কিন্তু নৈতিকতা জন্ম নেয় না নিয়ম থেকে,নৈতিকতা জন্ম নেয় স্পষ্টতা থেকে।
যেখানে স্পষ্টতা নেই,সেখানে নীতি কেবল মুখোশ।আর মুখোশ যত পবিত্রই হোক,তার ভেতরে শ্বাস নেওয়া যায় না।
স্বাধীন মানুষ একা হয়।কিন্তু সেই একাকীত্ব শূন্য নয়।সেখানে ভয় নেই,আছে নিজের সঙ্গে থাকার ক্ষমতা।
এই ক্ষমতাই মানুষকে নীরব করে তোলে।কারণ যে নিজেকে শুনতে পারে,তার আর ভিড়ের শব্দ প্রয়োজন হয় না।
স্বাধীনতা তাই কোনো দাবি নয়।এটা এক ধরনের প্রস্তুতি।যে প্রস্তুতি সবাই নিতে পারে না।
এই জন্য স্বাধীনতা কখনও গণতান্ত্রিক হয় না।স্বাধীনতা সবসময় ব্যক্তিগত।
যে মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত,সে কাউকে নেতৃত্ব দিতে চায় না।সে শুধু চায়—নিজের কাছে মিথ্যা না বলতে।
এইখানেই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ।নিজেকে অস্বীকার না করা।
স্বাক্ষর বাণী—
প্রীতম করণ সিংহশান্তিনিকেতন
রচিত — বঙ্গাব্দ ১৪৩২ | খ্রিষ্টাব্দ ২০২৫প্রকাশ — ২৬ শে ডিসেম্বর ২০২৫
© প্রীতম করণ সিংহ |সমস্ত লেখা ও ভাবনা কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত। অনুমতি ব্যতীত পুনর্মুদ্রণ, অনুবাদ, পরিবর্তন বা ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়। এই লেখা শেয়ার করার অনুমতি থাকলো, তবে কপি করা অথবা এর ভাষা, ভাব বা অংশ বিশেষ পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ।