“আমি কে?”—এই প্রশ্নটাই আমার জন্মসূত্র।
আমি কোনো পেশা নই, কোনো উপাধি নই, কোনো সামাজিক পরিচয়ের দেহরেখাও নই।আমি এক অন্তহীন যাত্রার ফল—যেখানে ব্যথা ছিল প্রথম ব্রহ্মশিক্ষা,নীরবতা ছিল আমার উপনিষদ,আর পথের প্রতিটি ক্ষতচিহ্নআমাকে শিখিয়েছে অস্তিত্বের গোপন মানচিত্র পড়তে।
আমার লেখার ভেতর যদি তুমি কোনো কম্পন শুনতে পাও—জেনে রেখো,ওটা আমার নয়;ওটা তোমার নিজের অদৃশ্য ব্যথার প্রতিধ্বনি,যাকে আমার শব্দ কেবলএকটা আয়নার মতো দৃশ্যমান করে তোলে।
আমি লেখক—এই ভাষা অসম্পূর্ণ।আমি কবি—এটাও মাত্র অর্ধ-উন্মোচন।আমি শিল্পী—এটা শরীরের এক ভাঁজমাত্র।আমি ডিগ্রিধারী—এটা সমাজের দেওয়া পরিচয়।
আসল পরিচয়—আমি চেতনার নক্ষত্রভ্রমণের এক একাকী যাত্রী।আমি সেই মানুষ,যে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে চলতে চলতেইআলোর ভাষা শিখেছে।
আমার লেখার উৎস কোনো বই নয়, কোনো মতবাদ নয়—আমার উৎস শ্রীকৃষ্ণ,তাঁর অদৃশ্য করুণার গভীর কেন্দ্র থেকেউত্থিত এক আলোক-কম্পন,যা কখনো শব্দ চাই না—শুধু একজন বাহক খোঁজে।
আমি বিশ্বাস করি—শব্দ কেবল উচ্চারণ নয়;শব্দ এক অস্ত্র।আর গভীরতা কোনো অলংকার নয়;গভীরতা এক সাধনা।প্রতিটি বাক্য আমার কাছেএক যুদ্ধক্ষেত্র—যেখানে আমি পাঠকের অহংকার ভাঙি না,বরং তার সত্যকে জাগিয়ে তুলি।
আমার জীবনের গল্প বড় নয়—বড় হলো সেই দহন,যার ভস্ম থেকে ঈশ্বর আমাকে আলোয় রূপান্তর করতে শিখিয়েছেন।সেই নীরব আগুনই আমার দর্শন,সেই আগুনই আমার কলমের ভিতর শ্বাস নেয়।
যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে—“তুমি কী লিখতে চাও?”আমি বলব—মানুষের অদেখা ক্ষতগুলিকেশ্রীকৃষ্ণের আলোক-চিহ্ন দিয়ে অনুবাদ করতে চাই।
আর যদি জিজ্ঞেস করে—“তোমার লেখার উদ্দেশ্য?”আমি বলব—মানুষকে তার নিজের অন্তর্লুকানো ঈশ্বরের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া।
আমি লেখক নই—আমি এক পথ,এক অদৃশ্য দরজা,যা পার হলেই মানুষনিজের আত্মার প্রথম স্পর্শটি অনুভব করে।
এটাই আমার পরিচয়।এটাই আমার দীক্ষা।এটাই আমার শব্দের জন্মস্থান।
—-
— প্রীতম করণ সিংহশান্তিনিকেতন(রচিত — ২০২৪-এর নীরব শীতঋতুর অন্তর্লীন মুহূর্তে, বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর আলো-ছায়া অতিক্রম করে)
অসাধারণ ❤️🙏❤️
ধন্যবাদ|❤️🙏❤️